ফাইল ছবি
ঢাকা, ৩০ মার্চ: জ্বালানি খাতে অনিয়ম ও অবৈধ কার্যক্রম রোধে সারা দেশে জোরদার মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে সরকার। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৬৪ জেলা থেকে প্রাপ্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা গেছে, মোট ৩৮৬টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ২১৪টি মামলায় মোট ৯ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের জনসংযোগ শাখা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের মাধ্যমে জ্বালানি তেলের মজুত, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, মূল্য বেশি রাখা এবং অননুমোদিত কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাজারে জ্বালানির স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং ভোক্তাদের ভোগান্তি কমাতে এই অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
অভিযানের অংশ হিসেবে বিভিন্ন জেলার পেট্রোল পাম্প, ডিপো এবং জ্বালানি বিপণন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে তদারকি করা হয়। বিশেষ করে অভিযোগ পাওয়া এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়, যাতে কোনো ধরনের কারসাজি বা অনিয়ম দ্রুত শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
এদিকে, উত্তরাঞ্চলের নীলফামারী জেলায় মোবাইল কোর্টের অভিযানে তিনজনকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তারা জ্বালানি সংক্রান্ত গুরুতর অনিয়মে জড়িত থাকায় এ দণ্ড দেওয়া হয়। এই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি অন্যদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুধু অর্থদণ্ড নয়, প্রয়োজনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে, যাতে জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় থাকে। একই সঙ্গে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত মনিটরিং অব্যাহত রাখা হবে।
মহানগর এলাকাগুলোতেও জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা তাদের অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে জ্বালানির চাহিদা বেশি থাকায় এসব এলাকায় বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে। ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিশ্লেষকদের মতে, নিয়মিত ও কঠোর নজরদারির ফলে জ্বালানি খাতে অনিয়ম অনেকটাই কমে আসবে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। একই সঙ্গে ভোক্তারা ন্যায্যমূল্যে জ্বালানি পেতে পারবেন, যা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সব মিলিয়ে, জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকারের এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে অনিয়ম আরও কমে আসবে এবং জনভোগান্তিও হ্রাস পাবে।